ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিজয়ের পর নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিজের করা গুরুতর এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) ট্রাম্প বলেন, ব্রাজিলের পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি তাঁর কাছে “আরেকটি কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন” বলে মনে হয়েছে। তিনি বিশেষ করে ইলেকট্রনিক ভোট গণনার পদ্ধতি এবং সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ভোট গ্রহণের সময়সীমা অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন।
ফ্লাভিও বলসোনারো ও লিবারেল পার্টির অবস্থান:
সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ও নির্বাচনে পরাজিত ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো রোববারের নির্বাচনে পরাজয় প্রাথমিক অবস্থায় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি লুলার বিজয় বাতিলের আবেদন করার কথা ঘোষণা করেন।
তবে সোমবার পরবর্তীতে বলসোনারোর দল লিবারেল পার্টি (PL) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে নির্বাচনের ফল স্বীকার করে নেয়। দলের শীর্ষ প্রধান ভালদেমার কোস্তা নেতো নিশ্চিত করেন যে, তারা নির্বাচনের ফল মেনে নিচ্ছেন; যদিও ভোটের সময় বাড়ানো সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
ভোটের ব্যবধান ও গবেষকদের মতামত:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এই ফল পাল্টে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। লুলা দা সিলভা প্রায় ৪৪ লাখের (৪.৪ মিলিয়ন) বেশি ভোটের বড় ব্যবধানে ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করেছেন।
ইনসপার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক পেদ্রো বুর্গোস নির্বাচনের অফিশিয়াল নথি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট যে অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা সময় বাড়িয়েছিল, সেই বর্ধিত সময়ে ভোট পড়েছিল ৩৫ হাজারেরও কম, যা মোট প্রদত্ত ভোটের মাত্র ০.০৩ শতাংশ (শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ)। ফলে এই সময় বৃদ্ধি চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
ব্রাজিল সরকারের প্রতিক্রিয়া:
ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরালদো আলকমিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ ভুল, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন। একই সাথে তিনি ব্রাজিলের বিশ্বস্ত ইলেকট্রনিক ভোটগ্রহণ ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর ফল স্বীকার করেননি এবং পরবর্তীতে সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে সেদেশের আদালত তাঁকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।
সূত্র: রয়টার্স
আর/কে
মন্তব্য করুন