স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কাটানো টানা নয়টি ঐতিহাসিক ও বর্ণাঢ্য মৌসুমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এমন কিছু অনন্য রেকর্ড ও কীর্তি গড়ে গেছেন, যা নিকট ভবিষ্যতে ভাঙা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বিখ্যাত ক্রীড়া পোর্টাল ইয়াহুস্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে রোনালদোর এই অনন্য ফুটবলীয় অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। ক্লাব ছাড়ার এত বছর পরও বিশ্বজুড়ে তার ঐতিহাসিক সাফল্যগুলো যেভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে, তা অতুলনীয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে আয়োজিত ফুটবলপ্রেমী ও ভক্তদের এক বিশেষ ভোটে সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর জয়ী মৌসুম হিসেবে মুকুট জিতেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ২০০৮ সালের পারফরম্যান্স।
‘BOAT’ ভোটাভুটির বিস্তারিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা:
সংক্ষেপে ‘বোট’ (BOAT – Greatest of All Time) নামে পরিচিত এই উদ্যোগটি মূলত সাধারণ সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত পাবলিক ভোট। যদিও এটি ফিফা বা ফ্রান্স ফুটবলের কোনো অফিসিয়াল ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠান নয়, তবুও এই ভোটাভুটিতে ফুটবল বিশ্বের উন্মাদনা ছিল লক্ষণীয়। এই অনলাইন ভোটাভুটিতে অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে সমর্থকরা একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর বিজয়ী একক মৌসুমকে শনাক্ত করা।
এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় রোনালদোর প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিলেন আধুনিক ও সোনালী যুগের বরপুত্র লিওনেল মেসি, ডাচ জাদুকর ইয়োহান ক্রুইফ, ফ্রেঞ্চ লিজেন্ড মিশেল প্লাতিনি এবং ব্রাজিলের ফেনোমেনন রোনালদো নাজারিওর মতো প্রখ্যাত সব কিংবদন্তি।
তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সবাইকে পেছনে ফেলে মোট ভোটের অবিশ্বাস্য ৭৫ শতাংশ একাই নিজের ঝুলিতে পুরে নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২০০৮ মৌসুম)। যেখানে তার চেয়ে বহুগুণ পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লিওনেল মেসির ২০১২ সালের মৌসুমটি, যা অর্জন করেছে মোটে ৯ শতাংশ ভোট।
অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয় হলো, রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে দুর্দান্ত সময় কাটানোর সুবাদে ২০১৭ সালে রোনালদোর জেতা আরেকটি ব্যালন ডি’অর জয়ী মৌসুম ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে এই তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
অবিশ্বাস্য ২০০৮ মৌসুমের স্মৃতিচারণ:
ফুটবল ইতিহাসে পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ২০০৮ সালটি ছিল রূপকথার মতো অবিশ্বাস্য। সেবার ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে মাঠ মাতাতি গিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে একাই ৪২টি গোল করেছিলেন তিনি। ক্লাবকে তৎকালীন সময়ে নিজ দেশের লিগ তথা প্রিমিয়ার লিগ এবং মর্যাদাপূর্ণ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নিজের করে নিয়েছিলেন ইউরোপীয় ‘গোল্ডেন বুট’। ফুটবল অনুরাগীদের ভোটে সেই ঐতিহাসিক মৌসুমের শ্রেষ্ঠত্ব নতুন করে প্রমাণিত হলো।
সূত্র: ইয়াহুস্পের্টস
আর/কে
মন্তব্য করুন