ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর স্যাটেলাইট ছবিতে পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
শুক্রবারের হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব এখনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে তেল ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি চালু করা না গেলে সৌদি আরবের রপ্তানির জন্য থাকা মজুতেও চাপ তৈরি হতে পারে।
প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান।
পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরবরাহ আরও কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছায়। মে মাসের পর এটিই ছিল ব্রেন্টের সর্বোচ্চ দাম।
রয়টার্সের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, পাইপলাইন মেরামতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে অন্য একটি সূত্রের দাবি, নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামতের কাজ শেষ হতে পারে। এমনকি মেরামতের সময় পাইপলাইনের কিছু অংশ দিয়ে সীমিত পরিমাণে তেল পরিবহন চালু রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দুই সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাইপলাইনের বড় একটি অংশ কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে।
গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে সৌদি আরব বিকল্প রুট হিসেবে এই পাইপলাইন ব্যবহার করে আসছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হচ্ছিল।
তিনটি শিল্প সূত্রের মতে, পাইপলাইন বন্ধ থাকলে ইয়ানবু বন্দরের মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন তেল রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। মিসরের আইন সুখনা ও সিদি কেরির বন্দরেও সৌদি আরবের কিছু তেল মজুত রয়েছে। তবে সেসব মজুতও সীমিত।
এদিকে তেলের দাম বাড়ার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও কমেছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, সোমবারের নির্ধারিত আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে।
ওই বৈঠকে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি সমঝোতার প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপনের কথা ছিল।
অন্যদিকে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবিও করেছে তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই অঞ্চলটির তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন