ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বগুড়া শাজাহানপুর অংশে মাইক্রোবাস ও ভুট্টাবাহী ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এই একই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিদেশফেরত যাত্রীসহ মাইক্রোবাসে থাকা আরও অন্তত সাতজন যাত্রী আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়:
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা হলেন—জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ফারুক মণ্ডলের ছেলে ও মাইক্রোবাসচালক ফেরদৌস মণ্ডল (২৫) এবং একই উপজেলার বারইল গ্রামের হাসের আলীর ছেলে জুবায়েদুল ইসলাম (৩০)।
নিহত জুবায়েদুল বিদেশফেরত স্বজনকে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
ঘটনার পটভূমি ও দুর্ঘটনা বর্ণনা:
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সদ্য বিদেশফেরত এক ব্যক্তি ও তাঁর সাথে থাকা স্বজনদের নিয়ে মোট ৯ জন যাত্রী বহনকারী একটি মাইক্রোবাস জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল।
ভোর চারটার দিকে মাইক্রোবাসটি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে চালক অসাবধানতাবশত মহাসড়কের বিপরীত (রং) লেনে ঢুকে পড়েন। ঠিক ওই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ভুট্টাবাহী ট্রাকের সাথে মাইক্রোবাসটির সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটির সম্মুখভাগ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক ফেরদৌস ও যাত্রী জুবায়েদুলের মৃত্যু হয়।
উদ্ধার তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপ:
সংবাদ পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব ও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত সাতজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, “দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। নিহতদের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
মন্তব্য করুন