ইসলাম ধর্মে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে জুমার দিনকে বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে জুমার দিবসের এই বিশেষ সম্মান ও পরকালের জান্নাতি মেহমানদারীর অভাবনীয় দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছিল, যা মুমিন হৃদয়ে আখিরাতের তীব্র ব্যাকুলতা তৈরি করে।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—জিবরাইল (আ.) শুভ্র আয়নার মতো একটি বস্তু নিয়ে তাঁর কাছে আগমন করেন, যার মাঝে একটি কালো দাগ ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর পরিচয় জানতে চাইলে জিবরাইল (আ.) জানান, এটি স্বয়ং জুমার দিন। আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে রাসুল (সা.) ও তাঁর উম্মতের জন্য বিশেষ ‘ঈদের দিন’ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ ইহুদি ও নাসারাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে।
কালো দাগের রহস্য ও ‘ইয়াউমুল মাযিদ’:
আয়নায় কালো দাগের কারণ হিসেবে জিবরাইল (আ.) স্পষ্ট করেন যে, বিশ্বজগতের অন্তিম মুহূর্ত অর্থাৎ কেয়ামত এই জুমার দিনেই সংঘটিত হবে। আর পরকালে জুমার দিনকে জান্নাতিদের জন্য ‘ইয়াউমুল মাযিদ’ (অতিরিক্ত নেয়ামত বা বৃদ্ধি পাওয়ার দিন) নামে অভিহিত করা হবে।
জান্নাতের সুগন্ধময় ও প্রশস্ত উপত্যকায় সেদিন এক অভূতপূর্ব ঐশ্বরিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। আল্লাহর নির্দেশে স্বর্ণের মিম্বরে পয়গম্বরগণ এবং মুক্তার চেয়ারে শহীদগণ উপবিষ্ট হবেন। সর্বশক্তিমান রাব্বুল আলামিন স্বয়ং সেই উপত্যকায় তাশরিফ আনবেন। এরপর জান্নাতি বান্দাদের জন্য বিশেষ পোশাক, সুস্বাদু খাদ্য এবং আতর-খোশবুর রাজকীয় পরিবেশন নিশ্চিত করা হবে।
ঈমানদারদের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি—আল্লাহর সন্তুষ্টি:
সবশেষে পরম করুণাময় আল্লাহ যখন বান্দাদের কাছে তাঁদের চাহিদার কথা জানতে চাইবেন, তখন মুমিন বান্দারা আর কোনো জাগতিক বস্তু না চেয়ে একবাক্যে আরজ করবেন—‘আমরা কেবল আপনার সন্তুষ্টি কামনা করি।’ জবাবে আল্লাহ তাআলা বলবেন—‘আমি তোমাদের প্রতি রাজি ও সন্তুষ্ট হয়ে গেছি।’
ইসলামিক বিশেষজ্ঞ ও মুফাসসিরদের মতে, মুসনাদে আবু ইয়ালা ও তবারানীর মুজামে আওসাতে উল্লিখিত এই হাদিসটি কেবল জুমার দিনের দুনিয়াবি গুরুত্বই তুলে ধরে না, বরং পরকালে মহান আল্লাহর দিদার ও নৈকট্য লাভের এক অমূল্য অনুপ্রেরণা যোগায়।
মন্তব্য করুন