যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতের মধ্যে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দিলেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান।
গতকাল শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছদ্মনামে এ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
শর্ত পূরণ ছাড়া মিলবে না হরমুজ প্রণালি:
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উত্থাপিত মৌলিক শর্তগুলো পুরোপুরি না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধই থাকবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সাংবাদিকদের কাছে শর্তগুলো বিশদে তুলে ধরে বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করলে ঠিক সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে ইরানের সমুদ্র বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, পশ্চিমা ব্যাংকে ফ্রিজ বা জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল ছাড় করতে হবে এবং তেল রফতানির ওপর থেকে সমুদয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। তবেই সাত দিন শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাল রেখা:
ইরানি কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সার্বভৌম আইনি অধিকার ও পারমাণবিক কর্মসূচির অভ্যন্তরীণ বিকাশ নিয়ে কোনো দরকষাকষি করবে না তেহরান। পাশাপাশি, নিজেদের সংগৃহীত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দাবির কাছেও মাথা নত করবে না তারা।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অভিযোগ তুলে আসছে যে, ইরান ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে (যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতা প্রয়োজন)। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) নজরদারিতে থাকা সকল স্থাপনার নিরাপত্তা বজায় রেখে তেহরান বারবার এই দাবি অস্বীকার করে এটিকে সম্পূর্ণ বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দাবি করে আসছে।
সমঝোতার সময়সীমা ও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আশাবাদ:
জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সাংবাদিকদের জানান, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই কার্যকর কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী তেহরান। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি চাপ সৃষ্টির নীতি বহাল রাখে, তবে কোনো বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনায় বসবে না বলে সতর্ক করেছে দেশটি।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন