সাকিব হোসেনকুষ্টিয়া কুমারখালী প্রতিনিধি।
নৌকা বাইচ সচরাচর দেখা গেলেও কলাগাছের ভেলায় চড়ে বাইচ প্রতিযোগিতা সচরাচর চোখে পড়ে না। এমনই এক ব্যতিক্রমী ও আনন্দদায়ক আয়োজনের সাক্ষী হলো কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বড়ুরিয়া খাল।
চড়াইকোল হয়তাপাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে বড়ুরিয়া খালে দুই দিনব্যাপী আকর্ষণীয় এই কলাগাছের ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা দেখতে খালের দুই পাড়ে উপচে পড়া ভিড় জমে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধসহ সব বয়সের হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং মানুষকে সুস্থ বিনোদন দিতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় মোট ১৬টি দল অংশ নেয়, যার প্রতিটিতে ৪ জন করে মাঝি ছিলেন।
শনিবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় ‘ঝঙ্কার এক্সপ্রেস’ ও ‘তামিম ডেকোরেটর’ মুখোমুখি হয়। শেষ পর্যন্ত সবাইকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ঝঙ্কার এক্সপ্রেস। এছাড়া তৃতীয় নির্ধারণী খেলায় ‘গ্রাম বাংলা এক্সপ্রেস’ তৃতীয় এবং ‘ভাই ভাই এক্সপ্রেস’ চতুর্থ স্থান অধিকার করে।
খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। চ্যাম্পিয়ন দলকে একটি বড় খাসি ছাগল এবং রানার্সআপ দলকে একটি ছোট খাসি ছাগল পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দুই দলকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে একটি করে দেশি মোরগ প্রদান করা হয়।
খেলা দেখতে আসা সেলিনা বেগম বলেন, ‘আগে নৌকা বাইচ দেখেছি, কিন্তু কখনো এমন ভেলা বাইচ দেখিনি। আজ এসে খুব ভালো লাগল। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি, সেও খেলা দেখে দারুণ খুশি।’
ষাটোর্ধ মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের গ্রামে এই প্রথম এমন কলাগাছের ভেলার বাইচ হলো। আমরা সবাই দারুণ আনন্দ পেয়েছি। চাই এমন আয়োজন প্রতিবছর নিয়মিত হোক।’
বাইচ আয়োজক কমিটির সদস্য আবু কাউসার অপু বলেন, ‘গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ বিনোদন থেকে বঞ্চিত। তাই তাদের একটু আনন্দ দিতেই আমরা এই ব্যতিক্রমী কলাগাছের ভেলা বাইচের আয়োজন করেছি। এলাকার নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি আমাদের এই আয়োজনকে সার্থক করেছে। আগামীতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখব ইনশাআল্লাহ।’
ছবি ক্যাপশন:কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বড়ুরিয়া খালে কলাগাছের ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতা, খালের দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের ভিড়।
মন্তব্য করুন