সাদিকুল ইসলাম আবির- নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা কুল্লাগড়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙনের কবল থেকে ১১৪ বছরের পুরোনো রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়, রানীখং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাধু যোসেফ ধর্মপল্লী রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমেশ্বরী নদীতে প্রতিবছর পাহাড়ি ঢল নামলে প্রবল স্রোত ও নদীভাঙনে এসব শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়ে। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে পাড় রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, জিওব্যাগ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা অনেকটা কমেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর পলিনোস রিছিল জানান, বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশ দিয়ে সোমেশ্বরী নদী প্রবাহিত। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের ওয়ালগেটের কাছাকাছি চলে এসেছিল। জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ দেওয়ায় বর্তমানে ভাঙন বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনি মৃ বলেন, নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে স্কুলের সীমানা প্রাচীরের কাছে চলে আসায় তারা উদ্বিগ্ন ছিল। জিওব্যাগ দিয়ে পাড় রক্ষার ব্যবস্থা করায় তারা স্বস্তি পেয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের অনুরোধ জানান।
রানীখং ধর্মপল্লীর সিস্টার মিলিনিউটি বলেন, বর্ষা ও বন্যার সময় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ধর্মপল্লীর আশপাশে ভাঙন দেখা দেয়। পাড় রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা কৃতজ্ঞ।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্তবর্তী এ এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, বসতবাড়ি ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হবে।
মন্তব্য করুন