মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের কার্যকর প্রয়োগ ও দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘লিভড এক্সপেরিয়েন্সেস টু মিনিংফুল চেঞ্জ: প্রমোটিং ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক প্র্যাকটিস ইন মেন্টাল হেলথ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ.
সেমিনারে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বর্তমান সমাজে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় কেবল আইন প্রয়োগ, চিকিৎসাসেবা কিংবা তাৎক্ষণিক সাহায্য যথেষ্ট নয়। বরং সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ চিহ্নিত করা, পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কাররা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মনোবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে। এই জনবলকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের কাজের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সমাজকর্ম বিষয়ে পেশাগত শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নোবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, সমাজসেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সমাজকর্মের প্রশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি ও পদগুলোকে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
সেমিনারে অন্যান্য অতিথিদের বক্তব্য:
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর কেবল তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং ঘটনার পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক প্রেক্ষাপট গভীরভঅবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পারিবারিক সহায়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের মতো পেশাগত ক্ষেত্রকে কাজে লাগানোর পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CSWAB)-এর সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার। অনুষ্ঠানটিতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম শাহীন খান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সভাপতি অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার প্রমুখ.
মন্তব্য করুন