আসন্ন ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সাথে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট ৯টি অভিযোগ ও ৩টি দাবি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বিকেল চারটা থেকে শুরু হয়ে এক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জামায়াতের উপস্থাপিত প্রধান অভিযোগসমূহ:
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন যে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা কোনোভাবেই নিরপেক্ষ নয়।
দলীয় প্রতিনিধিদলের সংগৃহীত তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “জামায়াতের একটি কেন্দ্রীয় দল গত শনিবার সশরীরে ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে। আজকের বৈঠকে আমরা সিইসির কাছে ছবি, আহতদের চিকিৎসাধীন চিত্র এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অকাট্য প্রমাণাদি জমা দিয়েছি।”
তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সদর উপজেলার ইউএনও খাইরুল ইসলাম প্রকাশ্যেই একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। তিনি রাতে প্রার্থীর গোপন বৈঠক ও বাড়িতে যাতায়াত করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণামূলক পোস্ট দিয়েছেন। বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।”
এছাড়াও জামায়াত নেতাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—
প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের আগে ও পরে মাইক বাজানো এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন প্রতীক ব্যবহার।
জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলা এবং পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা।
মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করে ভেতরে নির্বাচনি সভা পরিচালনা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটার এবং সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন।
নির্বাচনি বিধিমালার নিয়ম ভেঙে বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধ মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে ভোট টানার উদ্দেশ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা বিতরণ।
মাগুরা নির্বাচনের হুশিয়ারি ও ইসির প্রতিক্রিয়া:
১৯৯৪ সালের ঐতিহাসিক মাগুরার উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, “ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনকে যদি পুনরায় সেই মাগুরা মার্কা বিতর্কিত নির্বাচনের পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত খারাপ হবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে এখনই কঠোর ও সতর্ক হতে হবে।”
তিনি আরও জানান, বৈঠকে নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বস্ত করার মতো কোনো জোরালো ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের কথা জানাতে পারেনি। তবে এত কিছুর পরও জামায়াত এখনই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; বরং তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।
উক্ত প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেনসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
আর/কে
মন্তব্য করুন