
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার ঐতিহাসিক দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্বকে নতুন যুগের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকা শক্তিতে রূপান্তরের সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ ও মেগা পরিকাঠামোর সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বাড়াতে জাপানি বিনিয়োগকারী ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) জাপানের রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-এ জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাথে দ্বিপক্ষীয় উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উষ্ণ অভ্যর্থনা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মূল দিকসমূহ:
আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টোকিওর কান্তেই কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও সশস্ত্র ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা পর্ব শেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতা একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় প্রতিনিধিদলভিত্তিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বাণিজ্য, মেগা প্রকল্প, দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিষয়ে বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর:
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ ও জাপানের নিবিড় অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে গভীর আস্থা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তির ভিত্তিতে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করা এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করার বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি খাত, আইসিটি (ICT), আধুনিক রেলপথ, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগে (FDI) আমাদের দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার অভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) হস্তান্তরিত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৈঠকের সার্বিক ফলাফল ও অগ্রাধিকারসমূহ শিগগিরই একটি সমন্বিত ‘যৌথ ঘোষণা’ (Joint Statement)-এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
জাপানের অবদান স্মরণ ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা:
একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠনে জাপানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে মহান দেশ জাপানের জন্য একটি অত্যন্ত বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতার পর অন্যতম প্রথম দেশ হিসেবে জাপান আমাদের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। বিগত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তর ও মেগা অবকাঠামো উন্নয়নের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদার।”
জাপান সরকার ও জনগণের উষ্ণ আতিথেয়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, “আসুন, আমরা এমন এক টেকসই ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলি যা দুই দেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণে কাজ করবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধির স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাবে।”
আর/কে
মন্তব্য করুন