হাম্মাদ- ইবি প্রতিনিধি:
এআই, রোবটিক্স দিয়ে ভবিষ্যতের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যটন দিবস পালন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য র্যালি, ফুড ফেস্টিভালসহ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে এ দিবসটি উদযাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা বিভাগটি। পরে এটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলায় আয়োজিত ফুড ফেস্টিভালে এসে শেষ হয়।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানসহ বিভাগটির শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। একইসাথে কৃষক, জেলে, বাউল, আদিবাসী ও ট্যুরিজমের চাকরির ক্ষেত্র ভিত্তিক পোশাক পরিধান করে অংশগ্রহণ করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
ফুড ফেস্টিভালে বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্টলে দেশীয় খাবার, পিঠা, কেক, কসমেটিক নিয়ে অংশ নেন। পাশাপাশি বাংলাদশের জনপ্রিয় কিছু পর্যটন এলাকাকে পরিচিত করিয়ে দিতে কয়েকটি স্টল সাজায় শিক্ষার্থীরা।
পিনন হাদি পরিহিত বিভাগটির এক শিক্ষার্থী বলেন, আজকে আমি বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে চাকমা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের ঐতিহ্যবাহী পিনন হাদি পোশাক পরিধান করে বিশ্ব পর্যটন দিবসের র্যালিতে অংশগ্রহণ করেছি। যার মাধ্যমে আমাদের বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
সালেহা অহনা বলেন, আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে আমি বাউলের চরিত্রে অংশ নিয়েছি। কুষ্টিয়া একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক জেলা হওয়ায় লালনের বাউল সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই এই ভূমিকা বেছে নেওয়া হয়েছে।
বাপ্পি মজুমদার শুভ বলেন, আমাদের জেলার বিভিন্ন পর্যটন ও ঐতিহ্যবাহী স্থানকে তুলে ধরতে স্যার ও ভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা দিনটি উদযাপন করেছি। বিশ্বজুড়ে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশে এখনও এটি সেভাবে উদযাপিত হয় না। আমাদের দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও হেরিটেজ সম্পর্কে সবাইকে জানানো এবং পর্যটনের প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই আমাদের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
বিভাগটির প্রভাষক ইয়ামিন মাসুম বলেন, আমাদের বিভাগের পক্ষ থেকে নানামুখী কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। মূলত ট্যুরিজম একটি সম্প্রসারণশীল শিল্প। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি- যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স ও বিগ ডাটা অ্যানালিটিক্স ট্যুরিজমের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এরই অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা ও কর্মজীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। এ ধরনের কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে ও সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়িয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
মন্তব্য করুন