কাতারের উত্তর উপকূলে পারস্য উপসাগরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) ইউকেএমটিও নিশ্চিত করেছে যে, কাতারের মদিনাত আশ শামাল এলাকা থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত এক ট্যাংকার জাহাজকে লক্ষ্য করে একাধিক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
হামলার তীব্রতা ও হতাহতের খবর:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার শিকার জাহাজটিতে বেশ কয়েকজন আহত ও নিহতের খবর পাওয়া গেলেও ইউকেএমটিও বা কাতার কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণহানির সংখ্যা প্রকাশ করেনি। হামলার শিকার ট্যাংকারটি কোন দেশের মালিকানাধীন বা কোন দেশের পতাকাবাহী, সেটিও নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে।
সাধারণত উপসাগরের মধ্যবর্তী বা পশ্চিমাংশে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা বিরল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকিতে পড়েছে। কাতার তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) মধ্যে এই ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালি:
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সরু সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হতো।
ইউকেএমটিওর তথ্য মতে, শুধু চলতি অক্টোবরের প্রথম এক সপ্তাহেই হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৯টি সামরিক হামলার খবর নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা গত সেপ্টেম্বর মাসের মোট হামলার অর্ধেকেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানি বন্দরে অবরোধ জোরদার করার পর এই পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলার ঘটনা ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে।
আর/কে
মন্তব্য করুন