যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় গালফ উপকূলের দিকে প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে চলতি ২০২৬ আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম শক্তিশালী হারিকেন ‘ইসাইয়াস’ (Hurricane Isaias)।
ইতিমধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৮ কিলোমিটার (৮০ মাইল) থেকে বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ১৬৮ কিলোমিটারে (১০৫ মাইল) পৌঁছে আটলান্টিক মহাসাগরের চলতি বছরের প্রথম আনুষ্ঠানিক হারিকেনে পরিণত হয়েছে এটি। এটি উপকূলবর্তী এলাকায় আঘাত হানার সাথে সাথে জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র আকস্মিক বন্যার বিপজ্জনক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
আঘাতের সময় ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস:
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে হারিকেন ‘ইসাইয়াস’ গালফ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে গালফ উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে সাধারণ ৭৫ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ স্থানগুলোতে তা ২৫০ মিলিমিটার স্পর্শ করতে পারে। বিশাল পরিমাণের এই বৃষ্টিপাতের ফলে জলোচ্ছ্বাস ও নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক ফ্ল্যাশ ফ্লাড (আকস্মিক বন্যা) হতে পারে।
ঐতিহাসিক ও জলবায়ুপ্রেক্ষিত:
শক্তিশালী ‘এল নিনো’ (El Niño) প্রবাহের প্রভাবে চলতি ২০২৬ সালের আটলান্টিক হারিকেন মৌসুমটি এ যাবৎ বেশ শান্ত থাকলেও শেষ মুহূর্তে এমন শক্তিশালী সাইক্লোনিক ঝড় সৃষ্টি হলো। আবহাওয়ার রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯০৫ সালের ৮ অক্টোবরের পর এবারই প্রথম মৌসুমে এত দেরিতে কোনো প্রথম আটলান্টিক হারিকেন গঠিত হলো।
মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা ‘ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার’ (NHC)-এর পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ২টার বুলেটিন নিশ্চিত করেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠে অবস্থানের সময় এর গতিবেগ কিছুটা স্থির থাকলেও স্থলাভাগের কাছাকাছি এসে ‘ইসাইয়াস’ সাময়িকভাবে ক্যাটাগরি-৩ (Category 3) মাত্রার হারিকেনে পরিণত হওয়ার সব সম্ভাবনা রয়েছে।
উপকূলে প্রবেশের পর এটি কিছুটা শক্তি হারালেও উপকূলে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। প্রবল ধ্বংসাত্মক বাতাস, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও জীবনসংহারী বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের গালফ উপকূলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আর/কে
মন্তব্য করুন