সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনালে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দরটির অভ্যন্তরীণ ডিপার্চার টার্মিনাল লক্ষ্য করে এ আকস্মিক আক্রমণ চালানো হয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের পরিস্থিতি:
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় চারজন সৌদি নাগরিক এবং আটজন বিদেশী বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত দুইজন বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। হামলার পরপরই রিয়াদের একাধিক হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করে চিকিৎসকদের তলব করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ৪০১ নম্বর গেটের কাছে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মূল ভবনের ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে সাধারণ যাত্রীদের ওপর এসে পড়ে। বিস্ফোরণের প্রভাবে টার্মিনালজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া কাঁচ ও ধ্বংসাবশেষে বহু যাত্রী আহত হন। পরবর্তীতে নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরটির সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং দূরপাল্লার ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পুনর্নির্দেশিত করা হয়।
হুতিদের বক্তব্য ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া:
ইয়েমেনের হুতি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এ হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেন, ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের টানা বিমান হামলার জবাব দিতেই এই বিশেষ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
এ সংঘাতময় পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বলেছেন, “রিয়াদ বিমানবন্দরে এই হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা রিয়াদের সাথে কথা বলছি এবং সৌদি সামরিক জোটের সাথে যৌথভাবে হুতিদের ওপর পাল্টা বিমান হামলায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি মার্কিন প্রশাসন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।” মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব:
রিয়াদে চলতি মাসেই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক জ্বালানি কংগ্রেস এবং মাসের শেষভাগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বহুল প্রতিক্ষিত বার্ষিক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন (FII) আয়োজনের সময়সূচি রয়েছে। রাজকীয় এই আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলোর ঠিক মুখেই সরাসরি রিয়াদ বিমানবন্দরে এমন রক্তক্ষয়ী হামলা সৌদি আরবের বৈশ্বিক ব্যবসা, পর্যটন হাব গড়ে তোলার দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে নতুন করে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।
আর/কে
মন্তব্য করুন