সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনালে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। মর্মান্তিক এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩৩৯ জন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) রিয়াদের এই জনবহুল বিমানবন্দরে এই আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণ চালানো হয়।
নিহত ও আহতদের আন্তর্জাতিক পরিচয়:
সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুইজন বাংলাদেশের এবং বাকিরা যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক। বিমানবন্দরটির ৪০১ নম্বর গেট ও সংলগ্ন ডিপার্চার টার্মিনালে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে টার্মিনালের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ডজনখানেক অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারযোগে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়ায় চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে চরম জরুরি অবস্থা তৈরি হয়।
হুতিদের দায় স্বীকার ও জোটের কঠোর হুঁশিয়ারি:
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছেন, ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অব্যাহত বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে গুরুতর “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে অভিহিত করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামো ও যাত্রীবাহী টার্মিনালে এই জঘন্য হামলার দাঁতভাঙা ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান:
সৌদি ভূখণ্ডে এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেছেন, “সৌদি আরবে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” হুতিদের দমনে সৌদি সামরিক বাহিনীর সাথে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অভিযানে অংশ নেবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
টানা এই হামলার কারণে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সমস্ত ফ্লাইট বিকল্প গন্তব্যে পুনর্নির্দেশিত করা হয়েছে।
আর/কে
মন্তব্য করুন