ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারে পদত্যাগের একদফা দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত বৃহৎ বিক্ষোভ ও সমাবেশকে ঘিরে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে রাজধানী নয়াদিল্লির জনজীবন। গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত সমাবেশের ডাক দেওয়া হলে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাঁধায় নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভ।
দিনভর অভিযান চালিয়ে রাজধানীজুড়ে প্রায় ৩,০০০-এর বেশি আন্দোলনকারী ও শীর্ষনেতাকে আটক করে পুলিশ।
চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক ও নেতাদের মুক্তি:
সমাবেশে যোগ দিতে আসা বিরোধী দলের একাধিক শীর্ষনেতাকে বাসাবাড়ি, হোটেল ও বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন আম আদমি পার্টির (আপ) অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।
মধ্যরাতের পর শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেওয়া হলেও পুলিশ হেফাজতে রাখা হয় আন্দোলনটির মূল সমন্বয়কদের।
ধ্রুব রাঠী ও অভিজিৎ দীপকের আটক:
জনপ্রিয় ও আলোচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে গুরুগ্রামের একটি বাসস্থান থেকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, দলীয় নেতা আশুতোষ রঙ্কা ও সৌরভ দাসকে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরই আটক করে পুলিশ।
জানা গেছে, মহারাষ্ট্রে অভিজিৎ দীপকের দাদির মৃত্যুর খবর পাওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা বলয় থেকে তাঁর তাৎক্ষণিক মুক্তির তথ্য পাওয়া যায়নি, যদিও শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া চলছিল।
দিল্লিতে অচলাবস্থা, বন্ধ ৪৫ মেট্রো স্টেশন:
নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে অভূতপূর্ব নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলে দিল্লি পুলিশ ও প্রায় ২৫,০০০ আধাসামরিক সদস্য। সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করতে এবং আন্দোলন ছড়ানো রোধে রাজধানীর অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশদ্বার ২৪ ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। একইসাথে প্রায় ২৫০টির বেশি যাত্রীবাহী ও দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। যন্তর মন্তরের চারপাশের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ এলাকায় বন্ধ রাখা হয় হাই-স্পিড ইন্টারনেট সেবা।
আইসার (AISA) নেত্রী নেহা বোরাসহ ছাত্র নেতারা দিল্লি হাটে অবস্থান কর্মসূচির চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের প্রিজনভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
সোমবার আরও বড় আন্দোলনের ডাক:
সিজেপি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরে তাঁদের রাজপথের দাবি অব্যাহত থাকবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ এনে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট আগামীকাল সোমবার থেকে দেশব্যাপী আরও বৃহৎ পরিসরে রাজপথে নামার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আর/কে
মন্তব্য করুন