ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারে পদত্যাগের দাবিতে অচল হয়ে পড়া নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে আন্দোলনকারীদের শিবিরে। ব্যাপক গণআটক ও দীর্ঘ নাটకీయতার পর পুলিশি হেফাজত থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর দুই শীর্ষ সহযোগী।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে দিল্লি ক্যান্ট পুলিশ স্টেশনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার পর তাঁদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী ও সিজেপি নেতাদের মুক্তি:
সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং নিশ্চিত করেছেন যে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সিনিয়র নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ তাঁদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এর আগে শনিবার গভীর রাতেই আটক রাখা আলোচিত ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দলীয় নেতাদের মুক্তির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে, “অবশেষে দিল্লি পুলিশ আমাদের অভিভাবক অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে।” পোস্টটিতে তাঁরা তাঁদের লড়াকু স্লোগান পুনর্ব্যক্ত করে আরও যুক্ত করেন, “ককরোচরা কখনো মরে না (Cockroaches Never Die)।”
৬ হাজার ছাড়াল আটকের সংখ্যা ও নির্বাচন কমিশন বিরোধী বিক্ষোভ:
গতকাল শনিবার থেকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত এই নজিরবিহীন বিক্ষোভে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক মানুষের সংখ্যা এবার ৬,০০০ অতিক্রম করেছে বলে আন্দোলনকারী দলগুলো দাবি করেছে। আটক ব্যক্তিদের তালিকায় বিরোধী দলের বহু জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, সামাজিক অধিকারকর্মী ও জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা ছিলেন।
ভারতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিজেপি ও বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ডাকা এই অভূতপূর্ব আন্দোলনের জের ধরে পুরো দিল্লিতে জারি রয়েছে কড়া প্রশাসনিক নজরদারি। নেতাদের মুক্তির পর আগামীকাল সোমবারের ঘোষিত বৃহৎ প্রতিবাদের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আর/কে
মন্তব্য করুন