ইরানের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর নৌ অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা এবং বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার অভিযোগে ওমান উপসাগরে চলাচলকারী একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি ওশান মলিকা’ (যা ‘আরিকা সান’ নামেও পরিচিত) নামক জাহাজটির পেছনের অংশে একটি মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান থেকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র দিয়ে এই আক্রমণ চালানো হয়।
সেন্টকমের বিবৃতি ও অবরোধের প্রেক্ষাপট:
সেন্টকমের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হামলায় জাহাজটির চালিকাশক্তি বা প্রপালশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত জাহাজে থাকা নাবিকদের কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি। গত ১৪ জুলাই থেকে ইরানের যেকোনো বন্দরে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সমস্ত জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর নৌ অবরোধ পুনর্প্রয়োগ করেছে মার্কিন বাহিনী। বিগত তিন মাস ধরে চলা এই কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে অচল করা হয়েছে এবং ১৩৫টি সন্দেহভাজন জাহাজকে ওই জলপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
একই সময়ে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র সাথে সংশ্লিষ্ট ও গোপন আর্থিক নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা প্রায় ১০টি তেলবাহী ট্যাংকার মার্কিন বাহিনী ধ্বংস করেছে বলেও সেন্টকম দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমালোচনা:
এমন সামরিক পদক্ষেপের পর মার্কিন রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “এসব কেন করা হচ্ছে? বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে মার্কিন করদাতাদের কষ্টার্জিত অর্থের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কেন এভাবে অপচয় করা হচ্ছে?”
ইরানি আইআরজিসির পাল্টা হামলার দাবি:
এদিকে আমেরিকার এই উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ‘অবৈধ চলাচলের’ অভিযোগে অপর একটি জাহাজে হামলার দাবি জানিয়েছে ইরানের আইআরজিসি। তেহরানও এই জলপথে নিজেদের সামুদ্রিক অবরোধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালির পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানি বাহিনীর হাতে রয়েছে। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে প্রণালির দক্ষিণে অবৈধ পথে চলাচলের চেষ্টাকালে ‘এনভি সানশাইন’ নামের একটি বিশাল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। ন্যাটউইটের মালিকানাধীন এই জাহাজটি ইরানি সতর্কবার্তা অমান্য করায় এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আর/কে
মন্তব্য করুন