শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারি ব্যয় সংকোচন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ভার এবং সামরিক বাহিনীতে পুনরায় বাধ্যতামূলক নিয়োগ (কনস্ক্রিপশন) চালুর পরিকল্পনার প্রতিবাদে জার্মানিজুড়ে মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা। আগামী ৩১ অক্টোবর (হ্যালোইনের দিন) দেশব্যাপী এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। তবে এই আন্দোলনকে ঘিরে উগ্রপন্থি ও চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘জেন জেড স্টেহট আউফ’ (Gen Z Steht Auf) নামক তরুণদের একটি অধিকার রক্ষা উদ্যোগের পক্ষ থেকে এই দেশব্যাপী আন্দোলনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বার্লিন, হামবুর্গ, কোলন, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং মিউনিখসহ জার্মানির প্রথম সারির প্রধান প্রধান শহরগুলোতে একযোগে এই প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও তরুণদের দাবি:
আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা বাজেট ও সামাজিক কল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ কমানোর সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সামরিক বাহিনীতে যুবসমাজকে বাধ্য করার পরিকল্পনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি করেছে। বিশ্বমঞ্চে ও দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে তরুণদের মতামতকে তোয়াক্কা না করার প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উগ্রপন্থি অনুপ্রবেশ ও পুলিশের সতর্কতা:
এদিকে ৩১ অক্টোবরের এই দেশব্যাপী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চরমপন্থি ও উগ্রবাদী রাজনৈতিক দল বা দলগুলোর অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বার্লিন পুলিশ প্রশাসন।
জার্মান সংবাদ সংস্থা ‘ডিপিএ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ বলেন, “উগ্রপন্থি শক্তিগুলো নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সবসময় শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। তবে এবার কোনো অবস্থাতেই এমন অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ওই দিন বিক্ষোভটি প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবির প্রকাশ নাকি হ্যালোইন রাতের সুযোগ নিয়ে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর/কে
মন্তব্য করুন