ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষাক্ষাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে তীব্র হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) ব্রাসেলসের রাজপথে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও মারাত্মক পিপার স্প্রে ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের বিবরণ:
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিনিধি ও বেলজিয়ামের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি ও পূর্ববর্তী আন্দোলনগুলোতে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে গত কয়েক মাস ধরে চলা ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার কয়েকশ তরুণ ও শিক্ষার্থী রাজপথে নামেন।
একপর্যায়ে পুলিশ অতর্কিত কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করলে আন্দোলনকারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং অনেকে দৌড়ে পালানোর সময় মাটিতে পড়ে যান। সামাজিক মাধ্যমে ও সংবাদমাধ্যমে আসা দৃশ্যে দেখা যায়, মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের অন্তত একজন বিক্ষোভকারীকে লাঠি দিয়ে আঘাত ও নির্মমভাবে লাথি মারছেন। অন্যদিকে, ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা নিজেদের রক্ষায় রাস্তার ট্রাফিক সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ও সংগৃহীত স্কুটার-সাইকেলের স্তূপে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও গ্রেপ্তারের বিবরণ:
বেলজিয়ামের বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দফায় দফায় টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ব্রাসেলস পুলিশ দিনের শেষ দিকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ব্রাসেলস পুলিশ সূত্রে আরও নিশ্চিত করা হয় যে, জনশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করার অভিযোগে পাঁচজন বিক্ষোভকারীকে প্রশাসনিকভাবে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। এ ছাড়া বেআইনি ও নিষিদ্ধ অস্ত্র সাথে রাখা এবং দাঙ্গায় সরাসরি উসকানি দেওয়ার নির্দিষ্ট অভিযোগে আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আর/কে
মন্তব্য করুন