কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ড এলাকার নিজ স্বামীর বাসা থেকে তাঁর নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাৎক্ষণিক হেফাজতে নিয়েছে ফতুল্লা থানা পুলিশ।
নিহত ও আটককৃতের পরিচয়:
নিহত ফারজানা ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতক (২০১৯-২০) ও স্নাতকোত্তর (২০২৪-২৫) শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলাম একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ও একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী ছিলেন।
যৌতুক, নির্যাতন ও পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ:
ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে ভালোবেসে একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই ফারজানার ওপর প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। ফারজানার পরিবার থেকে বিভিন্ন দফায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা আদায় করার পরও ফারজানার ওপর নির্যাতন কমেনি। গত বছরের ডিসেম্বরে গুরুতর মারধরের শিকার হয়ে ফারজানা স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং স্বামী নাজমুলের বিরুদ্ধে একটি নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে কোনো ধরণের নির্যাতন করা হবে না মর্মে লিখিত আশ্বাস ও মুচলেকা দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের আকুল অনুরোধ জানান। দুই পক্ষের পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে সম্প্রতি সেই মামলা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হয়।
নিহতের ভাই আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঘটনার আগের দিন বিকেলে নাজমুলের দুলাভাই ফোন করে মামলা পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়েছে কি না নিশ্চিত হন। আরিফুল ইসলাম জানান, “মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার পরেই ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নাজমুল প্রথমে বেকার ছিল, পরে চাকরি পাওয়ার পর তার অর্থের লোভ আরও বেড়ে যায়। ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকেও ফারজানার সাথে স্বাভাবিক কথা হয়েছে; রাতে খাওয়ার জন্য সে চিপস ও কোল্ড ড্রিংকস কিনেছিল। কিন্তু রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে হঠাৎ মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।”
পুলিশ ও আইনি অবস্থা:
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আর/কে
মন্তব্য করুন