ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া ১০টি ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে সৌদি আরব। প্রভাবশালী কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
জোট জোটের মুখপাত্রের বক্তব্য ও হুতিদের হামলা:
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক পোস্টে জানিয়েছেন, “সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়াদের পক্ষ থেকে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছোড়া ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে মাঝপথেই প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।”
এর আগে ইয়েমেনে গত দুই দিন ধরে চলা তীব্র বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এই হামলার জন্য সরাসরি সৌদি আরব ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটকে দায়ী করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি আরব কিংবা জোট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সানায় হামলা ও তাইজ প্রদেশের সংঘর্ষ:
হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার রাজধানী সানায় চালানো পৃথক দুটি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী এবং একটি নিষ্পাপ শিশুও রয়েছে।
একই দিনে হুতিদের নিয়ন্ত্রित গণমাধ্যম কেন্দ্র জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজ প্রদেশের উপকূলীয় শহর মোখায় দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে জোট বাহিনী। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে তীব্র লড়াইয়ের পর শহরটি নিজেদের দখলে নিয়েছিল হুতি বিদ্রোহীরা। তবে মোখার ওপর চালানো এসব হামলায় সুনির্দিষ্ট কী ধরনের সামরিক বা বেসামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, সে বিষয়ে হুতি গণমাধ্যম কেন্দ্র বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুদ্ধের নতুন মোড় ও যুদ্ধবিরতির পতন:
এদিকে লোহিত সাগরের প্রবেশপথের অত্যন্ত সংবেদনশীল বাব আল মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলো হুতিদের কাছ থেকে পুরোপুরি পুনর্দখলে নিতে বিশাল পরিসরে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে ইয়েমেনজুড়ে সংঘাত ও সহিংসতার মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এর ফলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দীর্ঘকাল ধরে কার্যকর থাকা ভঙ্গুর শান্তিচুক্তি ও যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, যা ২০২২ সাল থেকে দেশটিতে এক ধরনের স্থবির শান্তি বজায় রেখেছিল।
সূত্র : আল জাজিরা
আর/কে
মন্তব্য করুন