যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (MLS) নু স্টেডিয়ামে এফসি সিনসিনাটির বিপক্ষে এক অত্যন্ত নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিয়েছে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের চার গোলের ঝড়ে শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতা ও ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লিওনেল মেসির দল। কাসেমিরোর নিখুঁত অ্যাসিস্টে লুইস সুয়ারেজ মায়ামিকে এগিয়ে দিলেও সিনসিনাটির দ্রুত কামব্যাকের মুখে পড়ে দলটি। তবে ম্যাচের একেবারে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে (৯০ মিনিটে) বদলি নামা তরুণ তারকা রিকেলমে ফিলিপির দুর্দান্ত গোলে হার এড়িয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত করে ‘হেরনস’ খ্যাত মায়ামি।
ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকার তিনে থাকা ইন্টার মায়ামির প্রধান লক্ষ্য ছিল নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে আগের ম্যাচের অপ্রত্যাশিত পরাজয় ভুলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানো। অন্যদিকে, প্লে-অফের টিকিট পাওয়ার কঠিন লড়াইয়ে মরিয়া এফসি সিনসিনাটিও মাঠে নেমেছিল জয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের পুরোটা সময় ছিল বেশ সতর্ক ও রক্ষণমুখী। দুই দলই নিজেদের রক্ষণ সামলে খেলে গোলশূন্যভাবে বিরতিতে যায়। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে (৪৪ মিনিটে) প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফাউল করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখতে হয় আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসিকে।
দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয়তা ও গোলবন্যা:
খেলার দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। ম্যাচের ৬১তম মিনিটে নিজের স্বভাবসুলভ ক্ষিপ্রতা ও পজিশনিংয়ের সাহায্যে ডেডলক ভাঙেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। মাঝমাঠ থেকে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা কাসেমিরো দারুণ এক থ্রু বল বাড়িয়ে দেন, আর সেই নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে স্বাগতিক শিবিরকে উল্লাসে মাতান সুয়ারেজ। বিরতির পর কৌশলগত পরিবর্তনে তেলাসকো সেগোভিয়া ও ইয়ান ফ্রে মাঠে নামার ফলে খেলার নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি নিজেদের করে নেয় মায়ামি।
কিন্তু এরপরেই ম্যাচে আসে চরম নাটকীয় মোড়। মিয়ামির ক্লান্ত ও নড়বড়ে রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দ্রুত দুটি গোল শোধ করে ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসে সিনসিনাটি।
ম্যাচে যখন স্বাগতিকদের হারের শঙ্কা জেঁকে বসেছিল, ঠিক তখন অলআউট আক্রমণে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মায়ামি কোচ। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে খেরমান বেরতেরামে-র বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তরুণ ফরোয়ার্ড রিকেলমে ফিলিপি। ম্যাচের ঠিক ৯০তম মিনিটে মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পলের চমৎকার এক পাস ডি-বক্সের জটলার মধ্যে পেয়ে দারুণ এক নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ফিলিপি। তাঁর এই নাটকীয় ও সময়োপযোগী গোল মায়ামির ডাগআউটে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে এবং শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতায় খেলা শেষ হয়।
মেসির ম্লান রাত ও শৃঙ্খলা রক্ষা:
দলের পক্ষে সুয়ারেজ ও ফিলিপি আলো ছড়ালেও মহাতারকা লিওনেল মেসির জন্য রাতটি কিছুটা ম্লানই ছিল। গোল পাওয়ার জন্য সারাক্ষণ সংগ্রাম করার পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধের দিকে তাঁর একটি জোরালো শট প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেওয়ালে প্রতিহত হয়।
এছাড়া মাঝমাঠে কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা দলকে কিছুটা থিতু করলেও, রক্ষণভাগের পুরোনো ভুল পুরোপুরি এড়াতে পারেনি মায়ামি। খেলার তীব্র উত্তেজনা সামলাতে গিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে শৃঙ্খলা হারিয়ে ফেলে মায়ামির ফুটবলাররা; যার ফলে মেসি, সেগোভিয়া ও সুয়ারেজ—এই তিন তারকাকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়।
এই ড্রয়ের ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ তিনের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখল ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে, পয়েন্ট টেবিলের গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট তুলে নিয়ে নিজেদের প্লে-অফের স্বপ্নকে সাফল্যের সাথে বাঁচিয়ে রাখল এফসি সিনসিনাটিও। এমএলএস মৌসুমের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তে দল দুটির এমন আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের ব্যাপক নজর কেড়েছে।
আর/কে
মন্তব্য করুন