শিক্ষক সংকট, দীর্ঘ যাতায়াতের ভোগান্তি এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্য দিয়ে চলছে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৫০৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত ঐতিহ্যবাহী এই মেডিকেল কলেজটি।
সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল একই ক্যাম্পাসে থাকার কথা থাকলেও নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। শিক্ষার্থীদের কলেজ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার হাসপাতালে গিয়ে ব্যবহারিক ক্লাস করতে হয়। প্রতিদিন বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা, মাইজদী বাজার ও সদর পৌর এলাকার যানজট ঠেলে হাসপাতালে পৌঁছাতে ন্যূনতম এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত পরিবহনের (গাড়ি) অভাব থাকায় এই যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘপথের ক্লান্তি ও সময়ের অপচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও মনোবল ভেঙে পড়ছে, যা তাদের মেধা বিকাশে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
কলেজে তীব্র শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি উঠেছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, অনেক চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত না থেকেও জালিয়াতির মাধ্যমে বায়োমেট্রিক হাজিরা দিয়ে মাস শেষে বেতন-ভাতা তুলছেন। এমনকি কেউ কেউ অন্য জেলায় অবস্থান করেও হাসপাতালে নিয়মিত ডিউটি দেখাচ্ছেন। এসব অনিয়মে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মেডিকেল কলেজের ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সামগ্রিক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানা গেছে।
নোয়াখালীর সর্বস্তরের জনগণ ও শিক্ষার্থীরা চান—মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে একই ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হোক।ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতি ও আবাসন খাতের দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার করা হোক। পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হোক।
একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সুন্দর পরিবেশে চিকিৎসাশিক্ষা শেষ করে শিক্ষার্থীরা যেন দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারেন—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
মন্তব্য করুন