ব্যালন ডি’অর ঘিরে নেপথ্যের বেশ কিছু চমকপ্রদ ঘটনার কথা ফাঁস করেছেন ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকীর সাবেক পরিচালক প্যাসকেল ফেরে। এর ফাঁকে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মধ্যকার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র বরাত দিয়ে গোলডটকম এ তথ্য জানিয়েছে।
১৯৮৬ সালে ‘ফ্রান্স ফুটবল’–এর সম্পাদনা পর্ষদে যোগ দেন ফেরে, আর পরিচালক হন ১৯৯৬ সালে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ এই সময়ে ব্যালন ডি’অর এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা বিতর্কের খুব কাছাকাছি ছিলেন তিনি। বিশেষ করে মেসি ও রোনালদোর ঐতিহাসিক লড়াইয়ের দিনগুলোয়।
‘মার্কা’র সঙ্গে আলাপকালে ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরে এই দুজনের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে কথা বলেন ফেরে। তিনি বলেন, তারা পুরস্কারটিকে নিজেদের কুক্ষিগত করে রেখেছিল, কারণ তারাই ছিল বিশ্বের সেরা। তারা যেন অন্য গ্রহের খেলোয়াড় ছিল।
এরপর গণমাধ্যমে নিজের করা এক মন্তব্য নিয়ে রোনালদোর সঙ্গে তার প্রকাশ্যে বাগ্বিতণ্ডার প্রসঙ্গ টানেন এই সাবেক পরিচালক। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আমি নিউইয়র্ক টাইমসকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম। সেখানে বলেছিলাম, ক্রিশ্চিয়ানোর স্বপ্ন হলো মেসির চেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অর জেতা।
র্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’র বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, হয়তো আমি নিজেকে ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারিনি। তবে সে (রোনালদো) যে কতটা লড়াকু মানসিকতার, তা কারও অজানা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে আমার কথার জবাব দিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত লাখো অনুসারীর সামনে সে আমাকে মিথ্যুক বানিয়ে ছেড়েছিল। তবে ব্যাপারটি খুব একটা গুরুতর ছিল না।
রোনালদো তার ক্যারিয়ারে ৫ বার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, অন্যদিকে মেসি এই পুরস্কার জিতেছেন আটবার।
পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্লাব ও খেলোয়াড়দের প্রভাব বিস্তারের বিষয়েও কথা বলেন ফেরে, যেখানে তিনি বিশেষভাবে রিয়াল মাদ্রিদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটা সত্য যে ক্রিশ্চিয়ানোর দুনিয়ায়, বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ জানত যে নিয়মের মধ্যে থেকে তাদের ঠিক কী করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান ফুটবলে এবং এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে রাখে। কারণ, আলফ্রেড ডি স্টেফানো এবং পরে রেমন্ড কোপাকে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ শুরু থেকেই ব্যালন ডি’অরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। অন্যদিকে ১৯৬০ সালে লুইস সুয়ারেজ জেতার আগপর্যন্ত বার্সেলোনাকে এই পুরস্কারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কাজেই এই পুরস্কারের সঙ্গে স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
সূত্র: গোলডটকম।
আর/কে
মন্তব্য করুন